দক্ষিণ যাত্রা (পর্বঃ এক)

শীতকালীন ছুটি আর ক্রিসমাস মিলিয়ে হাতে প্রায় একমাসের মত অবসর সময়। এই ছুটিতে কোথাও বেড়াতে না যাওয়ার মত বোকামি করাটা ঠিক হবে না। এখন থাকছি নিউ অরলিন্সে। আর আগামী বছর চলে যাচ্ছি ওয়াশিংটন ডিসি। তাই ভাবলাম দক্ষিণ দিকে, মায়ামি গেলে কেমন হয়। একবার ওয়াশিংটনের দিকে চলে গেলে মায়ামি, ফ্লোরিডা দেখতে যাওয়াটা কঠিন হয়ে যাবে। সাথে যোগ দিল দুই নেপালি আর আর এক ইন্ডিয়ান বন্ধু। ঠিক হল আমরা যাব কি-ওয়েষ্ট, আমরিকার সর্বদক্ষিণ প্রান্ত। যাবার পথে অর্লান্ডো পড়বে, তাই হয়ত ঢু-মারা হবে বিখ্যাত ডিজনি ওয়ার্ল্ডেও। আর বিচ-টিচ তো ঘোরা হবেই। তেমন কোনো নির্দিষ্ট প্ল্যান নেই।

রওনা দিলাম ২৩ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে। উদ্দেশ্য অর্লান্ডো ছাড়িয়ে কিছুটা দূরে, পাম বিচ। টানা ড্রাইভিং করলে ১৩ ঘন্টার মত লাগার কথা। আমরা অবশ্য বেশ কিছু যায়গায় থামলাম। পালা করে ড্রাইভিং, হালকা পাতলা ঘুম, থেকে থেকে আড্ডা দেয়া আর গান শোনা, এভাবেই সকাল হল। সকাল হতে না হতেই আটকে গেলাম জ্যামে। এখানে হাই-ওয়েতে সাধারনত জ্যাম একদমই লাগে না। কিন্তু, একবার লাগলে, সেই জ্যামেই অবস্থা কাহিল। জ্যামে থেমে থেমে গাড়ি চলছে। রাস্তার দুই পাশে দেখার মত কিছুই নাই। কেমন জানি একঘেয়ে মাঠ, মাঝে মাঝে জলার মত জয়গা। চোখে পড়ল অনেকগুলো বক উড়ছে আবার এসে বসছে জলায়।

শিকার


একসময় দেখলাম, একটা চিল আকাশে চক্কর দিচ্ছে। কেন জানি চোখ রাখলাম চিলটার উপর। দেখলাম, চিলটা হঠাৎ ছোঁ-মেরে একটা মাছ ধরল, দারুন দৃশ্য। ঘটনাটা ঘটল খুব দ্রুত। বেশ কটা ছবি তুললাম। টেনশনে ছিলাম চিলটাকে ঠিকমত ফোকাস করতে পারলাম কিনা। পরে কম্পিউটারে দেখলাম বেশ কটা ছবিই ভাল হয়েছে।

পাম বিচে পৌছতে পৌছতে পড়ন্ত বিকেল। বিচ খালি, প্রায় জনমানবহীন। পরদিনই ক্রিসমাস। তার উপর যে ঠান্ডা (৮/৯ ডিগ্রীর মত), কে আসবে বিচে? প্রচুর সি-গাল দেখলাম, বেশ অনেক গুলো স্যান্ডার্লিংও চোখে পড়ল। এই শীতের মাঝেও কয়েকজন সার্ফারকে দেখলাম সার্ফিং করতে। পানিতে নামতে ইচ্ছে করছে না? কোনো সমস্যা নাই, সেতুর মত একটা জিনিশ আছে যা বিচ থেকে চলে গেছে সমুদ্রের অনেকটা ভেতরে। সেখান থেকেই বিচ দেখা যায়।

পাম বিচ
বিচ দেখার জন্য তৈরি করা সেতু
সি-গাল
সি-গাল
স্যান্ডার্লিং
উড়ন্ত পেলিকন
উড়ন্ত সি-গাল
সার্ফার
ঘরে ফেরা
বিকেল

পাম বিচ এলাকায় একটা বনেদি আবহ দেখলাম। বেশিরভাগ বাড়িই দারুন সুন্দর করে সাজানো, কয়েকটি প্রায় প্রাসাদের মত বিশাল। পরে উইকিতে দেখলাম মাইকেল জ্যাকসনসহ বেশ অনেক সেলেব্রিটিদেরই বাড়ি আছে এখানে।
সারা রাতের ভ্রমনক্লান্তি আর বিকেলের সৈকতে ঘোরাঘুরি করে সবাই ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত। সন্ধ্যার দিকে রওনা দিলাম হোটেলের উদ্দশ্যে। পরের দিনের প্ল্যান ডিজনি ওয়ার্ল্ড।
(চলবে…)

17 Replies to “দক্ষিণ যাত্রা (পর্বঃ এক)”

  1. মনটা এমনিতেই ভাল নেই।আপনার ছবিগুলো দেখে আরো খারাপ হয়ে গেলো।কাল কলেজ থেকে গেছিলাম শিক্কা সফরে লঞ্চে উঠে কয়েকটা ছবি নেয়ার পর দেখি ক্যামরার চার্জ শেষ।:(চার্জে দিছিলাম বাট কখন যে ক্যামরাটা ডিসকানেক্ট হয়ে গেছিল খেয়াল করিনি। মেজাজটাই খারপ হয়ে গেলো।

    আপনার ছবিগুলো খুব সুন্দর হইছে ভাইয়া।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s