প্রথম ব্লগর ব্লগর

বসন্তকালীন ছুটি প্রায় শেষ। কোথাও যাওয়া হল না এই ছুটিতে। বেশ কিছু কাজ জমে ছিল। ভাবছিলাম এই ছুটিতেই কাজগুলো করে ফেলব। কিন্তু তা আর হল কই! কেমন করে যে ছুটির পাচঁ দিন কেটে গেল টেরই পেলাম না। ভাবছিলাম আজ থেকে সিরিয়াসলি শুরু করব। এটা অবশ্য দুই তিনদিন আগে থেকেই ভাবছি। ছুটির বাকি আর মাত্র তিন দিন। আমার ছুটির সময়গুলা সাধারনত তিনটা ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথম ভাগ যায় এটা ভেবে যে, মাত্র ছুটি শুরু হল, এত তাড়া কিসের, সময়তো আছেই। মাঝেরটা যায় এটা ভেবে যে, অনেক সময় নস্ট করে ফেলেছি, সামনের সময়টা কাজে লাগাতে হবে। শেষের ভাগটা যায়, আবার কবে ছুটি পামু তার ঠিক নাই, এই কয়দিন একটু আরাম কইরা লই, এটা ভেবে। এর মধ্যে শুরু হল প্রচন্ড মাথা ব্যাথা। কামে ফাকি দেওয়ার ভাল অজুহাত। আহ্ আজকে ইচ্ছামত সময় নস্ট করতে পারব, অপরাধবোধটা কম কাজ করবে। পেইনকিলার খেয়ে চুপচাপ সিনেমা দেখতে দেখতে রেস্ট নিতে থাকলাম।

মাথা ব্যাথা যখন ভাল হবার পথে, বিকেলের দিকে, বন্ধু রেজিনের ফোন। খুব ভাল ভায়োলিন বাজায় ও। গল্পের ছলে বলেছিল, ও নাকি প্রতি শুক্রবার এক চার্চে ভায়োলিন বাজায়। আমার খুব ইচ্ছা ছিল একদিন চার্চে গিয়ে প্রার্থনা দেখার। ওকে বলেও ছিলাম আমার এই ইচ্ছার কথা। ফোনে জিজ্ঞেস করল, আজ আমি যেতে পারবা কিনা। নিশ্চিন্তে বলে দিলাম যাব। মাথাব্যাথার জন্য আজকের সময়টা এমনিতেই নস্ট হত। তারচে বরং সময়টা একটু কামে লাগাই।

রেজিন নিজেই আসল আমাকে নিতে। গাড়ি গিয়ে যেখানে থামল, বাইরে থেকে সেটাকে কোনোভাবেই চার্চ বলা যাবে না, কেমন জানি অফিস অফিস ভাব। ভেতরে ঢুকলাম। জায়গাটা অনেকটা অডিটরিয়ামের মত । এক প্রান্তে দেখি কীবোর্ড, ড্রামস সাজানো। গীটার হাতে দুই লোক। কিছুক্ষনের মধ্যেই শুরু হল গান। গীটার হাতে দুইজনের মধ্যে একজন মেইন ভোকাল। ১০/১২ বছর বয়সী একটা মেয়ে বাজাচ্ছে চেলো। যদিও গানগুল যিশু আর ঈশ্বরের বন্দনামূলক, সুর পুরাই পাংকু। তার উপরে সেইরকম সাউন্ড সিস্টেম। গানের কথা যদি কেউ খুব মনোযোগ দিয়ে না শোনে তাহলে মনে হবে কোনো রক ব্যান্ড গান করছে। বাহ্, ভাল তো। খুব বিনদোন পাইতে লাগলাম।

কয়টা গানের পর শুরু হল প্রজেক্টরে “দি প্যাশান অফ দি ক্রাইস্ট” সিনেমার অংশবিশেষ প্রদর্শন। সেই যে, ছবির শেষের দিকে যিশুকে ক্রুশবিদ্ধ করার মর্মান্তিক দৃশ্যগুলো। এই ছবিটা আমার অনেক পছন্দের একটা ছবি। উপভোগ করতে লাগলাম। মনে মনে ভাবলাম, এরাতো দেখি উপাসনাকে রীতিমত বিনোদনের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। বিবির্তনটা ভালই লাগল।

ছবি প্রদর্শনের পরে, সবার হৃদয় যখন আর্দ্র, বাইবেল থেকে আলোচনা শুরু করতে আসলেন গান গাওয়া সেই মেইন ভোকাল। রংচটা নীল জিন্স আর অফ হোয়াইট শার্ট পরা চরম স্মার্ট এই লোকই তাহলে পাদ্রী?(ওরা অবশ্য নিজেদেরকে বলে Pastor) ব্যাপক তো! আমিতো ভাবছিলাম অন্যকিছু যতই পাংকু হউক না কেন, ঈশ্বরের বানী বলার জন্য ঠিকই গলায় ক্রুশ ঝুলিয়ে কালো আলখাল্লা গায়ে এক পাদ্রী আসবে। যা হোক, তিনি বাইবেল থেকে ঈশ্বরের বানী নিয়ে আলচনা শুরু করলেন। বেশ আমিও মুগ্ধ হয়ে শুনতে লাগলাম। ভাল গান গায়, তাই আলোচনাটা অনেকটা আবৃতির মত লাগছিল। কিন্তু, এক পর্যায়ে তিনি বললেন “খ্রিশ্চিয়ানিটি ইজ দি অনলি ওয়ে অফ লিভিং লাইফ, খ্রিশ্চিয়ানিটি ইজ দি বেস্ট রিলিজিওন ফর ম্যানকাইন্ড”। সাথে সাথেই চরম ধাক্কা খেলাম। আইচ্ছা…সব ধর্মগুরুদেরই তাইলে এক কথা, তা সে যতই আধুনিক হোক না কেন!

বি.দ্র.
এই চার্চটা হল সেলিব্রেশান চার্চ অফ নিউ অর্লিন্সhttp://www.celebrationchurch.org/new। এটা আসলে গতানুগতিকতার একটু বাইরের চার্চ। এটাকে ওরা বলে মাল্টি-কালচারাল চার্চ। প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৮ সালে। ওদের বেশ কয়েকটে ক্যাম্পাসের একটিতেই গিয়েছিলাম আমি।

 

Advertisements

9 responses to “প্রথম ব্লগর ব্লগর

  1. শেখ আমিনুল ইসলাম নভেম্বর 13, 2010; 7:43 পুর্বাহ্ন এ

    এক পর্যায়ে তিনি বললেন “খ্রিশ্চিয়ানিটি ইজ দি অনলি ওয়ে অফ লিভিং লাইফ, খ্রিশ্চিয়ানিটি ইজ দি বেস্ট রিলিজিওন ফর ম্যানকাইন্ড”। সাথে সাথেই চরম ধাক্কা খেলাম। আইচ্ছা…সব ধর্মগুরুদেরই তাইলে এক কথা, তা সে যতই আধুনিক হোক না কেন!

    জটিল বলেছেন 🙂
    খুব ভালো লাগল। শুভ কামনা নিরন্তর।

  2. ইফতেখার নভেম্বর 21, 2010; 2:01 পুর্বাহ্ন এ

    vaia darun 🙂
    prothom blogor blogor ei to sokka haklen.
    Lekhar style ta onnek sundor hoise vaia. Keep going…. 🙂
    (phn theke dhuksi, banglai comntaite parlam na tai )

  3. তৌফিক হাসান নভেম্বর 21, 2010; 8:05 অপরাহ্ন এ

    কি রে আমারে বাইর কইরা ফালাইসস? 🙂
    তুই পারসও!!
    উৎসাহ দেবার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

  4. তাজিন নভেম্বর 28, 2010; 8:01 পুর্বাহ্ন এ

    দারুন লিখছো তো ভাইয়া।
    চালায় যাও…।।

  5. জয় সরকার ডিসেম্বর 30, 2010; 4:59 অপরাহ্ন এ

    আপনার ঝরঝরে লেখার ফ্যান হয়ে গেলাম………… 😎

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: